জন্মদাত্রী মহিয়সী নারী

মা অতি মধুর একটি শব্দ । দশ মাস দশ দিন যেই মহিয়সী নারী সন্তানের ভ্রূণ গর্ভে ধারণ করে থাকেন তিনি হচ্ছেন প্রিয় জন্মদাত্রী মা | একজন মা তার সন্তানকে পৃথিবীর মুখ দেখায় , হাজারো প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে সন্তান মানুষ করে ! মায়ের মর্যাদা হওয়া উচিত সন্তানের নিকট অতুলনীয় ! রাসূলুল্লাহ ( সা : ) বলেছেন – ” মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত ”

আদিমযুগে সন্তানের নিকট মা :

প্রস্তরযুগে সন্তানদের একমাত্র সম্পদ ছিলো মা ! আগেরদিনে ছেলেমেয়েরা মা কে অসম্ভব শ্রদ্ধা করতো ! পাহাড়সমান সম্মান করতো | মায়ের অসুস্থতার খবর পেলে সাড়ারাত জেগে সেবাশুশ্রুষা করতো | মা কে অসম্ভব সময় দিতো | আপনি আপনি করে ডাকতো | মায়ের মুখে হাসি ফুঁটাতে সকল অসম্ভব কাজ ও নিমিষেই সম্ভব করতো | মা কে নিয়ে দেশ-বিদেশ সফর করতো | মাকে পছন্দের জিনিস উপহার দিতো | বলতে গেলে 100% গর্ভধারিণী মায়ের বাধ্যগত সন্তান ছিলো ।

বর্তমানযুগের আধুনিক সন্তানদের নিকট মা :

আধুনিক যুগের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরা মা কে বোঝা মনে করে ! বর্তমানযুগ বড়ই নিষ্ঠুর | পেপার পড়তে নিলেই চোখ অবশ হয়ে যায় 80/90 বছরের মা কে রাস্তায় ফেলে আসে , ময়লার স্তুপে পোকামাকড় এর কামড়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে অঝোরে বেদনার জল ঝরিয়ে ক্লান্ত হয়ে একটা সময় ছুটি নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় অভাগা মায়েরা ! আজকালকার ছেলেমেয়েরা হয়ে গিয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর ! 24 ঘন্টার মাঝে ঘুম , খাওয়া , পড়ালেখা , বাদে বাকি সময় বন্দী করে রাখে নিজেদের প্রযুক্তির বেড়াজালে ! একজন মা চায় সন্তান বাইরে থেকে এসে সারাদিনের সুখ দুঃখের কাহিনী তার সাথে বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে শেয়ার করুক ! কারন মা হচ্ছে সন্তানের কাছে সুখ – দুঃখের ব্যাংক !কারন একটাসময় তোমার পাশে বন্ধুবান্ধব , কিছু মানুষের অভাব হবেনা কিন্তু বিপদের সময় মা ছাড়া কেউ থাকেনা পাশে ! কিন্তু আধুনিক যুগের সন্তানেরা এসব মানতেও নারাজ ! মায়ের জন্যে বিন্দুমাত্র ও সময় নেই তাদের হাতে আর সেবা করবে ঐটা তোহ দিবাস্বপ্ন মাত্র !

মা সন্তানের জন্যে আশীর্বাদস্বরূপ :

একজন মা তার একমাত্র সন্তান মানুষ করার জন্যে সুখ বিসর্জন দিয়ে দেয় ! সন্তানের সাফল্যমাখা চেহারার মাঝে মায়ের স্বর্গীয় সুখ নিহিত ! প্রত্যেকটা মা ই চায় তার সন্তানের সকল মনের আশা পূরণ করতে ! খাবারদাবারের ক্ষেত্রে দেখা যায় মা নিজে ভালো না খেয়ে সন্তানকে ভালো খাওয়ায় ! ঈদের সময় নিজেরা পুরাতন ছিড়া কাপড় পরে সন্তানকে নতুন জামাকাপড় পড়ায় ! জীবনের সকল সুখ কুরবানী দেয় একমাত্র সন্তানের হতাশা দূর করতে ! আর এই সন্তানেরাই কেউ কেউ মাকে পথের কাঁটা মনে করে ! কোথায় আছি আমরা ???

মায়ের মায়াবী মুখে হাসি ফুঁটাতে করণীয় :

১. মা কে দিনশেষে সকল সুখদুঃখের কাহিনী শেয়ার করুন ।
২. আপনি যত টাকাই রুজি করুন না কেনো মাকে মাঝেমাঝে যা ই পারেন টুকিটাকি বা ভালো কিছু গিফট দিয়ে খুশি করুন ।
৩. সপ্তাহের একটাদিন মা কে নিয়ে তার পছন্দের জায়গায় ঘুরে আসুন ।
৪. মা যেইসকল খাবার পছন্দ করে তা আফসোস মিটিয়ে খাওয়ান ।
৫. সীমাহীন সেবাশুশ্রূষা করুন ।
৬. বাধ্য সন্তান হতে চেষ্টা করুন |
৭. কখনো জোড় গলায় মায়ের সাথে বেয়াদবি করবেন না ! আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে ।
৮. মা কে কখনো কারো সামনে অপমান করবেন না । মনে রাখবেন এই মায়ের জন্যেই আপনি দুনিয়ার মুখ দেখতে পেরেছেন ।
৯. বৃদ্ধাশ্রমের সকল চিন্তা মাথা থেকে খুন করুন আদর্শ সন্তান হয়ে থাকলে ।

মায়ের সকল নেক আশা পূরণ করে তার নিষ্পাপ মুখে স্বর্গীয় হাসি ফুঁটাতে চেষ্টা করুন ।

আব্রাহাম লিংকন এর মতে ” পৃথিবীতে যার মা আছে , সে কখনো গরিব নয় ।

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এর মতে ” আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও , আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দিব “।

আশা করি আজকের পর থেকে সকল সন্তানের কটু দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে তাদের মায়ের উপর | মা কে সর্বোচ্চ সিংহাসনে বসিয়ে রাখুন ! মায়ের দোআতে সফলতা আপনার পিছনে পাগলা ঘোড়ার মতো লাগামহীনভাবে ছুটবে ! বিশ্বাস না হলে আজ থেকেই মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করে দেখুন গ্যারান্টি দিয়ে বলছি একদিন ঠিকই আমার ব্লগ পোস্টটির কথা মনে পড়বে !

ফেসবুক এ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *