রাগ-দমন

আমাদের নিজেদের মধ্যে যে প্রবৃত্তি আমাদের নিজেদের জন্য শত্রু বা ক্ষতির কারন রাগ তাদের মধ্যে অন্যতম। রাগের সময় আমরা সাময়িক ভাবে হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকি না।

রাগের পিছনের অনুধাবনঃ একজন মানুষ তখনি রেগে যায় যখন তিনি দেখেন তার কিছু অতি ব্যক্তিগত নিয়ম, বা অধিকারকে লঙ্ঘন করা হয়েছে যা অন্যায়। রাগান্বিত মানুষ নিশ্চিতভাবে মনে করেন তার সংগে খারাপ আচরন করা হয়েছে এবং তার ধারনা এটি ইচ্ছাকৃত ভাবে করা হয়েছে অথবা অন্যদের উদাসীনতা বা অবহেলার কারনে হয়েছে।

তাই রাগ দমন করতে চাইলে রাগের সময় যে সব স্বতঃস্ফূর্ত “অটোমেটিক চিন্তা” আমাদের মনে এসে থাকে সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। আরেকটি কাজও সাহায্য করবে তা হল প্রায়ই যে সব পরিস্থিতি বা আচরন আমাদের রাগিয়ে দেয় সে সব আচরন ও পরিস্থিতির একটি তালিকা লিখে রাখা যায়।

উপরোক্ত দু’টি জিনিস ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে বিশেষ কোন থিম বা নিয়ম বা নীতির খোজ পাওয়া যাবে। এর সঙ্গে রাগের সময় কি ধরনের আচরন করা হয় এবং ফলাফল অন্যদের উপর কি রকম প্রভাব হবে সে বিষয় গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।

যা করতে হবেঃ যেহেতু “নীতি” ভঙ্গ করার জন্য এই রাগ সেই নীতিগুলো সম্পূর্ন ব্যক্তিগত, মোটেই সার্বজনীন নয়। তাই সেই নীতিগুলো অন্যদের জন্য স্বাভাবিক তো নয়ই। অনেক ক্ষেত্রেই অদ্ভূত অপ্রাসঙ্গিক এমন কি অন্যায্য মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা নিজেরা তেমন বেশ কিছু নীতি খুবই ন্যায্য ও অবশ্য পালনীয় মনে করি। সেটি সবাই, এমনকি নিজের পরিবারের লোক যে সে নীতিটিকে তেমন অবশ্য পালনীয় মনে করবে, ব্যাপারটি কখনোই তেমন নয়। তাই ব্যাপারটিকে এভাবে বুঝতে পারলে যখনি কাউকে মনে হবে সে ঐ নীতিটি ভঙ্গ করেছে ইচ্ছে করে, আমাকে ক্ষতি করার জন্য বা বিদ্বেষপূর্ন মনোভাব নিয়ে করেছে এই নেতিবাচক চিন্তাটি কমে আসবে।

আমরা রেগে যাই, কেননা মনে করি ঐ লোক জেনে শুনে ইচ্ছে করে বিদ্বেষপূর্ন মনোভাব নিয়ে আমাকে ছোট করতে, আমার ক্ষতি করতে, আমাকে অমান্য করতে, আমাকে অপমান করতে এটি করেছে ইত্যাদি। যখন বোঝা যাবে যে ঐ নীতিটি খুবই ব্যক্তিগত মোটেই সার্বজনীন নয়, খুবই ন্যায্য ও অন্যদের জন্য অবশ্য পালনীয় নয়, তখন এত ক্রোধ হবে না।

অন্যেরা জানে না বা জানলেও আমার মতন সেটি ন্যায্য ও অবশ্য পালনীয় তা মনে করে না, তখন তার বা তাদের প্রতি বিদ্বেষ কমে আসবে। আমরা কখনোই জোর করে নিজেদের বিশ্বাস, মতামত, নীতি অন্যদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারি না। এসবের ব্যত্যয় ঘটলেই তারা চরম বেয়াদপ, চরম শত্রু, চরম বিদ্বেষপরায়ন তেমনটি ভাবার কোন যুক্তি নেই। আমরা নিজেরা ও অন্যদের খুবই ব্যক্তিক ও গোপন তেমন নীতিকেই কেয়ার করি।

তাই রাগ দমনের জন্য প্রথমেই যা করতে হবে সাময়িক বা মধ্যবিরতি দেয়া, কণ্ঠস্বর নিম্ন করা এবং ঐ স্থান ত্যাগ করা। আরেকটি দিক হল রাগের-সময় কোন সিদ্ধান্ত দেয়া বা না নেয়া, এমনকি রাগের মাথায় চিঠি বা ডাইরী না লিখা।

রাগের সময়কার চিন্তা, আবেগ ও মূল্যায়ন যে সম্পূর্ন অস্বাভাবিক এটা আমরা বুঝতে পারি না। এই ভুল তথ্য ও আবেগ অনেককেই সারা জীবন বহন করে বেড়ায়। যা নিজেদের জন্য যেমন কষ্টকর, অন্যের জন্যো লাঞ্ছনার। যতক্ষণ না শান্ত না হবেন, ততক্ষন পর্যন্ত ঐ ব্যাপারে কোন Action এ যাবেননা। হয়ত দেখা যাবে মাথা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার পর যা বলতে চেয়েছিলেন বা করতে চেয়েছিলেন বা করতে চেয়েছিলেন আদৌ তা বলতে বা করতে মন সায় দিচ্ছে না। এমনকি রাগের মাথায় বলা বা করা জিনিস নিয়ে পরে যথেষ্ট অনুশোচনা করতে হয়।

সম্পূর্ন লেখাটি ডা. মোঃ তাজুল ইসলাম স্যার এর বই “মন ও মানুষ” থেকে নেয়া।

 

ফেসবুক এ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *