বৃদ্ধাশ্রম যখন ঠুনকো জীবনের শেষ ঠিকানা

জীবন ভীষণ অদ্ভুত এবং অনিশ্চিত | বাবা -মার মাদ্ধমেই আমরা এ রঙিন পৃথিবীর মুখ দেখতে সক্ষম হয়েছি | ক্ষুদ্র এ জীবনে পিতামাতার ঋণ কখনো শোধ করা যাবেনা  | তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটা সন্তান মানুষ করতে | কিন্তু দিনশেষে ছেলেমেয়ে বোঝা মনে করে বাবা মাকে  নিয়ে রেখে আসে সেই অভিশপ্ত বৃদ্ধাশ্রমে |

সন্তানের জন্যে বাবামার সংগ্রাম :

  • পিতামাতা সন্তানকে মানুষ করার জন্যে জীবনের আনন্দফুর্তি সবকিছুই বিসর্জন দিয়ে দেয় !
  • বাসায় ভালো খাবার রান্না হলে তারা নিজেরা না খেয়ে আদরের সন্তানের জন্যে যত্নে খাবার তুলে রাখে !
  • মদ্ধবিত্ত পরিবারে মাঝেমাঝে দেখা যায় সন্তানের চাহিদা পূরণ করা কষ্টসাদ্ধ হয়ে পরে! পিতামাতা হাজার রকমের কষ্টের স্রোতে ভেসে হলেও ছেলেমেয়ের মন খুশি করতে চেষ্টা করে !
  • বাবা-মা পুরাতন কাপড় পরতে ভালোবাসে ! যদিও তাদেরও ইচ্ছা জাগে নতুন পোশাক পড়ার কিন্তু সীমিত খরচে সংসার চালিয়ে ছেলেমেয়েদের ভরণপোষণ মিটিয়ে নিজেরা কখনো ভালো পোশাক তেমন পড়তে পারেনা ! সন্তানকে ভালো পোশাকে দেখতেই তারা স্বর্গীয় আনন্দ লাভ করে |

মা-বাবা খুব বেশি অসুস্থ না হলে ডাক্তার এর কাছে যাননা ! যখন অসুস্থতা দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেয় ঠিক ওই মুহূর্তেই ডাক্তার দেখান ! কিছু টাকা বাঁচিয়ে তারা চায় সন্তানকে ভালো রাখতে !

বৃদ্ধ হলে পিতামাতার প্রতি সন্তানের আচরণ :

  • বাবামাকে বয়স হলে আধুনিক সমাজের ছেলেমেয়েরা বোঝা মনে করে !
  • একটাসময় দেখা যায় প্রতিনিয়ত খারাপ ব্যবহার করে !
  • সাধারণত দেখা যায় বিয়ের পর কিছু কালনাগিনী বউ এর পাল্লায় পরে ছেলেরা বাবা-মাকে সময়ে অসময়ে অপমান করে কাঁদিয়ে থাকে !
  • বিষধরসাপ রুপী অধিকাংশ বউরা তাদের স্বামীদের কুটিল বুদ্ধি দিয়ে ব্রেইন ওয়াশ করে শশুড় শাশুড়িকে পাঠিয়ে দেয় বৃদ্ধাশ্রমে !

বিয়ের পর অধিকাংশ ছেলেই বউ এর গোলাম হয়ে যায় ! রাতদিন বউ এর কথায় উঠাবসা করে ! এইসব কুলাঙ্গার ছেলেরা মা বাবাকে সম্মান তোহ দূরে থাক রাস্তায় ফেলে দিয়ে আসতেও দ্বিধাবোধ করেনা !

বৃদ্ধাশ্রমে শেষমেশ অসহায় বাবামার দিনযাপন :

প্রত্যেকটা বাবা মা চায় শেষবয়সে সুখে থাকতে ! কিন্তু ভাগ্যের চাকা তাদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয় ! সন্তানেরা যখন বাবা – মাকে বৃদ্ধাশ্রমে চিরতরে ফেলে চলে আসে তখন মাবাবার দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা তাদের আগের সুখের মুহূর্ত গুলো নিয়ে ভাবে ! বিষন্নতার ভেলায় ভেসে যায় তাদের প্রতিটি দিন ! মাঝরাতে দূর আকাশের চন্দ্র ও তারকারাজিরা শুনতে পায় এ সকল অসহায় পিতামাতার করুন আর্তনাদ ! মাথার বালিশ ভিজে একাকার হয়ে যায় অগ্নিময় চোখের জলে ! ভালো খাবারের আসাতে তারা দিন গুনে ! নাতিনাতনীর মুখ দেখতে চায় প্রানপনে কিন্তু বৃদ্ধাশ্রম নামক ভয়ানক কারাগার হতে তাদের মৃত্যু ছাড়া মুক্তি মেলেনা !

মা – বাবার অভিশাপ বেঈমান সন্তানদের প্রতি :

মা বাবা কখনো সন্তানকে মন থেকে অভিশাপ দিতে পারেনা ! কিন্তু তাদের একফোঁটা চোখের জলে আল্লাহর আরশ কেঁপে যায় ! পিতামাতা সন্তানের দেয়া ব্যবহারে উহঃ শব্দ করলে ওই সন্তান জান্নাতে যেতে পারবেনা ! যেই সন্তান আজ তার বাবা মার সাথে খারাপ আচরণ করছে সে তাদের মতো বৃদ্ধ হলে তার সন্তানের দ্বারাও তদ্রুপ আচরণ উপহার পাবে ! যে যেমন করবে দিনশেষে সে ঠিক তেমনই ফল ভোগ করবে ! ‍

ফেসবুক এ শেয়ার করুন

You may also like...

1 Response

  1. Moshiur Rahman says:

    darun likhesis greenleaff****r

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *