প্রোগ্রামিং এ শয়তানের কুমন্ত্রনা!!!

আমরা যারা প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা করি অথবা অনলাইন জাজগুলোতে প্রবলেম সলভ করি বেশির ভাগেরই একটি স্বপ্ন আছে প্রোগ্রামিং নিয়ে বড় কিছু হওয়ার।কারন মার্কেট কাপানো মুখরোচক বিষয়গুলো যেমন ওয়েব ডেভেলপিং অথবা এসইও অথবা গ্রাফিক্স ডিজাইন এগুলো বাদ দিয়ে যারা #competitive_programming এর সাথে আছে তারা অবশ্যই মনের খোরাক নিতেই এসেছে এখানে।কিন্তু পথচলাটা বেশি দূর আগায় না অনেকেরই।প্রধান কারন হল হাল ছেড়ে দেয়া।কয়েকবার #WA অথবা #রানটাইম_এরর খেলেই চিল্লাইয়ে বলে উঠে #অনেক_অইছেরে_ভাই_এডি_আমার_লেইজ্ঞা_না, #এডি_হেই_বিরিলিয়ান্ট_পোলাপানগো_লেইগা_যারা_গুগল_চুগলে_জব করব।#যাই_আমি_ওয়েব_ডিজাইন_হিগি ( 😜)।
এই শেষ,,,,,। একটা প্রতিভাধর নীলপদ্ম অংকুরেই বিনাশ।আরে ভাই চালিয়ে যান না আপনি।বিশ্বের যত বড় বড় মানুষকেই দেখেন না কেন কেউই কিন্তু কপালের জোড়ে বড় হয়নি।হয়েছে কপালে হাত না চাপড়িয়ে হাত শক্ত করে মুট করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ফলেই।তা আপনি আপনার হাতও মুঠ করুন।অন্যকে দেখে নিজেকে ছোট ভাববেন না।আমি নিজেই নিজের একটা উক্তি দিয়ে মানুষকে লেকচার দেই (😜),তা হল-
Every body becomes brainy inborn but intellectual by cultivation.
হয়তো আপনি যাকে কথাকথিত #কপালওয়ালা ভেবে নিজের #কপাল চাপড়াচ্ছেন সেই #কপালওয়ালার কপাল খোলার কাহিনী হয়তো আপনি জানেই না,শুধু বাহিরের চকচক জিনিসটাই চোখে পড়ে আপনার, হয়ত তার হাতে শক্ত হয়ে যাওয়া করটা চোখে পড়ে না।তো নিজেই নিজেরকে গড়ে তোলার চেষ্টায় থাকুন।আল্লাহতালা অবশ্যই আপনার চাওয়া পুরন করবেই যদি তার উপর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলতে পারেন।তা এখন প্রোগ্রামিং এ হাল না ছেড়ে এগিয়ে যাওয়ার কয়েকটি টেকনিক বলি যা আমি নিজেও করি এবং অল্পদিনে আমার নিজেরও অনেক উপকারে এসেছে |

প্রথমত বলি,সময় অথবা ব্যস্ততার অজুহাত বাদ দিন।আপনি একটা স্টপওয়াচ নিয়ে নিজেই প্রতিদিন হিসাব করুন কতটাইম ফেসবুকে বিনিয়োগ করেন।কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই বিনিয়োগে আপনি চক্রবৃদ্ধি হারে কোনো মুনাফা না পেলেও চক্রবৃদ্ধি হারে নিজের সময় হারাচ্ছেন। তাই এই আসক্তি বাদ দিন।অপ্রয়োজনীয় গ্রুপ আজই leave করুন।আজাইরা পেজ, পাবলিক ফিগার,মঠেল😜,অথবা #ফাসবুক_ছেলেবিরিটদের আজই আনফলো করেন।কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমি দেখেছি আমার নিজের ক্ষেত্রেও এগুলাই ফেসবুকের সময় নষ্টের মুল হোতা।ভাই একটা কথা মনে রাখবেন গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করে জব না পেয়ে প্রেমিকার যখন অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে গেছে এই স্ট্যাটাস feeling sad দিয়ে আপলোড দিবেন তখন আপনার এই স্ট্যাটাসের লাইক কমেন্ট দেয়ার মানুষও কিন্তু গুটিকয়েকই থাকবে।মানে কি দাঁড়াল দিন শেষে কিন্তু আমরা সবাই একা।তাই আগেই নিজের পথ খুজে নিন।আর অবশ্যই আপনি সারাজীবন কষ্ট করতে চাইবেন না, চাইবেন একটা নির্দিষ্ট সময় কষ্ট করে বাকি সময় জীবন উপভোগ করার।আর সেই সময়টি হল এখনই।

দ্বিতীয়ত,মাত্রাতিরিক্ত বন্ধুপ্রেম ছাড়ুন।হয়তো আপনার মেসে টানা ৫-৬দিন পাতলা ডাল আর আলু ভরতা খাওয়ার কাহিনী বন্ধুকে বলতে পারবেন না মান সন্মানের ভয়ে,সে আপনার ভিতরের এই কথাগুলা জানতেও যাবে না।কথা উঠলে বলবে “আরে ধু্ররররররুহহ বেডা বাদ দে,টেকা এমনেই আইব টেনশন কম ল।ল আমারে একটা বিড়ি খাওয়া।” এমন হবে যে আপনি যখন প্রোগ্রাম সলভ করছেন OJ তে আপনার প্রাণের #ফ্রান্স আপনাকে ফোন দিয়ে বলল যে : “মামা ল সুইটির বাড়ির দিকে একটা কুচকাওয়াজ মাইয়া আহি।ও আমার #কারাস 😜“।তখন যদি আপনি বলেন যে : না মামা তুই যা, আমি এসব এ নাই।তুই যাহ।প্রব্লেম সলভ করতাছি।তখন আপনি অবশ্যই শুনবেন যে :” হ দেহুম। কি বিল গেটসটা হইবার পার।বিল গেটসের গেইটের দারওয়ান অইবার পারবিনি দেহুম।”
কথা শুনুন, খান এবং হজম করুন
আর নিজের লক্ষ্য নিয়ে ভাল বন্ধু ছাড়া কারো সাথে ডিসকাস করবেন না।কারন হল এরা আপনার কথা শুনে আপনার কথাগুলো একটা স্ট্রিং এ নিয়ে রাখবে আর আপনার ব্যর্থতা দেখলে ওই স্ট্রিংটা প্রিন্ট করে খোটা শুনাবে আর বলবে যে “খুব তো সলভিং চলবিং কইরা উড়াইলা লাইছিলা।তো কি অইল???জব তো পাওনাই।আর আমি তো এম এল এম কোম্পানীতে কাম পাইয়া গেলাম(😜)”।ইউনিভারসিটি এডমিশনের পর এই জিনিসটার আমার ক্ষেত্রে হয়েছিল তাই ভুক্তভোগী হিসাবে নিজের কথাই শেয়ার করলাম।😒।কয়েকমাস খাটুনির পর কোন ভাল সাবজেক্ট এ চান্স না পেয়ে প্রাইভেট ইউনিভারসিটিতে এডমিট হওয়ার সময়।
খোটা শুনুন, খান, হজমও করুন।আবার সলভিং শুরু করুন।আর বন্ধুদের বলেন যে আপনি প্রোগ্রাম করেন মনে খোঁড়াক যোগাতে,টাকাই ইনকাম করতে হবে প্রোগ্রামিং করে ব্যাপারটা খুব যে এমন তা না।তো আপনার অবসর টাইমে আপনি সলভিংই করবেন সাফ জানিয়ে দিন।

আর ক্লাস-সিজিপিএ এগুলার দোহাই বাদ দিন।আপনি যখন ৮-৯ঘন্টা ঘুমান তখন তো ক্লাস-সিজিপিএর দোহাই দিয়ে কম ঘুমান না।লাইফে ভাল কিছু করতে হলে এগুলোর ভিতর দিয়েই করতে হবে,এগুলোকে ভাল রেখেই করতে হবে।তিব্বতে গিয়ে ল্যাপটপের সামনে পদ্মাসন করে বসে প্রবলেম সলভিং করার দরকার নেই কন্টেস্টে ভাল করার জন্য।

আড্ডাবাজি কমান।আড্ডার টপিক রাখুন UVA অথবা অন্য কোনো OJ এর এত নং প্রবলেমটা #হেই_প্যাঁড়ারে মামা, তুই কেমনে করলি এইডা?? এমন টপিক।

কখনোই জটিল কোনো বিষয় ১-১.৫ কেজি ওজনের কোনো রেফারেন্স বই থেকে শেখা শুরু করবেন না।ছোট সহজ ভাষায় লিখা এমন ব্লগ অথবা বই থেকে শেখা শুরু করুন।তারপর আপনি ওই বিষয়ের যে নির্দিষ্ট একটি টপিকটির উপর ভাল ধারণা রাখতে চাচ্ছেন যে বিষয়গুলোর উপর অনেক বই মিলিয়ে শিখার চেষ্টা করুন।

পরিশেষে বলব, আমার মত যাদের পিসির সামনে বেশি সময় বসতে না পারার বেআরাম আছে তাদের জন্য খানিক আরামের ব্যাবস্থা নিচে করে দিলাম। আপনার ফোনটিই আপনাকে অনেকভাবে সাহায্য করতে পারে প্রবলেম সলভিং এ ভাল করার।কিছু এপস আপনাকে অনেক সুবিধা দিবে কোডিং প্র‍্যাক্টিস চালিয়ে যেতে।ঢাকার রাস্তায় জ্যামে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে বসে ট্রাফিক সার্জেন্টকে গালমন্দ না করে ফোনেই চালিয়ে যান সলভিং।তাতেও যদি ভাল না লাগে তাহলে জ্যামে বসে বসে ক্লাস ৮ প্রেমে ছ্যাকা খাওয়ার কাহিনী 😜 না ভেবে একটি নির্দিষ্ট প্রবলেম যা আপনি পারছিলেন না সেটা কিভাবে সলভ করা যায় ভাবতে থাকুন। নিচে এদের লিংক দেয়া হল।

#CppDroid: সি/সি++ এর জন্য খুব ভাল একটি মোবাইল কম্পাইলার।
https://play.google.com/store/apps/details?id=name.antonsmirnov.android.cppdroid

#Google_keep : খুব দারুন একটি এপ।আপনি সব প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিভিন্ন #লেভেল দিয়ে সেভ করে রাখতে পারেন।যেমন : UVA থেকে ১০০-১৫০টা প্রবলেম #PROBLEM নামের একটা লেভেল বানিয়ে এতে সেভ রাখতে পারেন।যেকোনো সময় অফলাইন অবস্থায় মোবাইলের কম্পাইলারটি ওপেন করে বসে গেলেন সলভিং এ।অথবা কারো ব্লগ এর কন্টেন্টগুলা কপি করে রেখে দিলেন অফলাইনে পড়ার জন্যে।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.google.android.keep

#Pastebin : এটি ব্যবহার করে খুব সহজে এন্ড্রয়েডফোন থেকে আপনার কোনো সোর্সকোড এই গ্রুপসহ অন্য যে কারোর সাথে শেয়ার করতে পারেন।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.jmz.pastedroidapp

#DroidEdit : এটি ব্যবহার করে খুব সহজে আপনার সোর্সকোডগুলো ফোনে অর্গানাইজড করে রাখতে পারেন এবং এডিট ও করতে পারেন।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aor.droidedit

#STACK_EXCHANGE and #QUORA : কোনো বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে এই মোবাইল এপসগুলোর মাধ্যমে প্রশ্ন করে অনলাইন কমিউনিটির কাছে সাহায্য চাইতে পারেন।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.stackexchange.marvin

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.quora.android

#TEAM_VIEWER : টিম ভিউয়ারের ডেক্সটপ ভার্শনটির সাথে অনেকেই পরিচিত হয়তো।কিন্তু এর মোবাইল এপটি দিয়ে আপনার বন্ধু যদি সলভিং এর সময় আটকে যায় এবং আপনার সাহায্য চায় আপনি কাওয়ারচরে 😜 থাকলেও নিমিষেই আপনার বন্ধুর পিসিতে REMOTE ACCESS করে তার কোডের উপর পণ্ডিতি করতে পারবেন😜 আপনার ফোনটির সাহায্যেই।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.teamviewer.teamviewer.market.mobile

#HACKED‘S_KEYBOARD : কোডিং করার সময় এটি আপনাকে পিসির কিবোর্ড এর ফ্ল্যাভার দিবে ১০০-১০০।

https://play.google.com/store/apps/details?id=org.pocketworkstation.pckeyboard

#YOUTUBE : এই এপটা সবাই চিনেন হয়তো।😜। অমুকে তমুক জায়গায় এসে একি করল দেখুন ৫মিনিটের তুলকালাম করা ভিডিও 😂 দেখা বাদ দিয়ে প্রোগ্রামিং এর উপর করা ইংলিশ-বাংলা টিউটোরিয়ালগুলো দেখুন+শিখুন+প্রেকটিস করুন।

লিংক দিলাম না বিশ্বাস করলাম সবার এটা আছেই😂

আর আমাদের সাথে তো #হাসান_ভাইয়ার #হাসানের_রাফখাতা এপটি থাকছেই।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.hellohasan.hasanerrafkhata

(আমার পোস্টের উপদেশমুলক কথা দেখে আমাকে কেউ হয়তো ভেবে বসে থাকতে পারেন আমি #ACM_ICPC_WORLD_FINALIST এমন টাইপের কেউ 😜।তা মোটেও না।আমার প্রোগ্রামিং এ আসার বয়স মোটামুটি ১বছর হতে চলল।

 

লিখেছেনঃ 3moN

ফেসবুক এ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *